শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

দুটি ছবি ক’টি কথা


কালিহাতির পৈচাশিক ঘটনার প্রতিবাদে কাল তিনজন মানুষকে হত্যা করা হলো, আমি সেই “বর্বর” ঘটনাটি উল্লেখ করতে বিব্রত বোধ করি।



শুধু এ টুকুই বলবো, আমি মুক্তিযুদ্ধকালীন অসংখ্য অনুরূপ ঘটনাকে কোনো অংশে খাটো করে দেখিনা, তবে কালিহাতির এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনার চেয়ে কোনো অংশে খাটো নয়, আমি সেটাই বলছি। একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কী করে এই “বর্বর” কান্ড একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংঘঠিত হতে পারে, সেটা আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে কুলোয় না!



আমার মনে হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে পাঞ্জাবি পশুদের রয়ে যাওয়া উত্তরসুরীরা তাদের পূর্বপুরুষদের মতই চারিত্রিক দোষাবলী এখনও বহন করে। ওরা পাকিস্তানিদের ধর্ষণকামী বির্যৌত্থিত উত্তরপুরুষ। গত পয়তাল্লিশ বছর ধরে এ সুজলা-সুফলা বাংলার জল-হাওয়া ওদের পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত চরিত্রের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে নি। পারেনি মা আর মায়ের সম্ভ্রম রক্ষায় জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এ দেশের সন্তানেরা কতবড় ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত, তার ধারণা ওদের অবর্জনাপুর্ন মস্তিস্কে ঢুকিয়ে দিতে।

কাজেই ওদের বিচারও হতে হবে বিশেষ ট্রাইবুনালে, নিয়মিত আদালতে নয়, এটাই সময়ের দাবি।



সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভ্যাট বিষয়ে সরকারের ডিগবাজির মূল কারণ পুলিশ

একটু পিছনের দিকে খেয়াল করলেই আমরা দেখতে পাই জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলমান অর্থবর্ষে গত প্রায় আড়াই মাস ধরে টিউশন ফি এর বিপরীতে এই সারে সাত শতাংশ হারেভ্যাট বাবদ কর্তন হয়ে আসছিলো। নিঃসন্দেহে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়মিত জমাও হয়ে আসছিল। কারণ মূসক কর্তন করা হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারী হিসেবে জমা দিতে হয়, এটাই আইন।  সে হিসেবে যেহেতু আড়াই মাস আগে থেকে ভ্যাট কর্তনের হারটি কার্য্যকরী হয়েছে, সুতরাং তা এক কথায় রাষ্ট্রের কোষাগারে নিয়মিত জমা হত, সেটা ধরে নেওয়া অমূলক নয়। 


হা, একথাও ঠিক, একই সাথে আন্দোলনও চলছিলো। তবে প্রথম দিকে একটু জোড়ালো থাকলেও গত সপ্তাহের শুরু অবধি সে আন্দোলন ব্যাপক জনগোষ্ঠির সমর্থন পায়নি এবং তা ছিল অতি মাত্রায় দূর্বল। এক কথায় সেটা হয়ে পড়েছিল বিচ্ছিন্ন আন্দোলন। আর এই রকম আর কিছুদিন গেলে সে আন্দোলন মিয়িয়ে যেতো সেটা সকলের বোধগম্য।


কিন্তু বিপত্তিটা বাধলো কখন, যখন, গত সপ্তাহের শেষদিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায় আর বেশ কিছু শিক্ষার্থীর সাথে জনৈক শিক্ষককে গুলিবিদ্ধ করে আহত করে। শিক্ষকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে পারে নি। মেনে নিতে পারার কথাও নয়।


আহত শিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়ে পরে "ভাইরাল"। ছড়িয়ে পরে সারা দেশে, দেশের বাইরেও।


ঠিক পরের দিনই আন্দোলন ব্যাপকতা পায়, ছড়িয়ে পড়ে বনানীর ভার্সিটি পল্লীতে, মিরপুরে, ধানমন্ডিতে, উত্তরায়। এর পরের দু-তিন দিন এখনও সবার চোখের সামনে ভাসছে। পুরো ঢাকা শহর প্রতিটি পল অনিশ্চয়ত আর আতংকের মধ্যে কাটিয়েছে, এই যেন কোথায় না কিভাবে আবার হিংসা ছড়িয়ে পড়ে! এই ভয়ে শহরবাসী ছিলেন ত্রস্ত। 


সুতরাং এ কথা খুবই স্পষ্ট, ইচ্ছে করেই হোক, সিদ্ধান্তের দুর্বলতার কারণেই হোক কিংবা কিছু সদস্যের অত্যুতসাহী ভূমিকার কারণেই হোক, ভ্যাট ইস্যুতে সরকারকে তার অবস্থান বদলাতে ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করছে পুলিশই !


প্রশ্ন হলো এইভাবে শহরবাসীকে গত চার-পাঁচ দিন ধরে যে আতঙ্কিত হয়ে প্র্রহর কাটাতে হলো কতিপয় পুলিশকর্মীর চাটুকারী সিদ্ধান্তের কারণে এর দায় কী পুলিশ নেবে কিংবা একটা চলমান আর গৃহীত ও স্বীকৃত সরকারী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করে সরকারকে যে হেনস্তা হতে হলে এর জন্য দায়ী পুলিশকর্মীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হবে না কেন?


রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এতিমখানা ও দুটি প্রশ্ন!

কাগজে দেখছিলাম মাননীয় অর্থমন্ত্রী গত কয়েকদিন আগে কোথায় যেন বলেছেন "দেশে আর কোনো ভিক্ষুক নেই"। কোন তথ্য কিংবা জরিপের উপর নির্ভরতা নিয়ে জনাব মাল এই কথা বলেছেন, ঠিক জানা নেই। তবে কাঁচা-বাজার সব্জিবাজারের যে হালত! তাতে সহজেই অনুমেয় আসলেই দেশে কোনো ভিক্ষুক নেই, থাকার সুযোগ নেই। সেই অর্থে জনাব মাল যথার্তই বলেছেন, বলা চলে। কারণ দ্রব্যমূল্য যে স্তরে বর্তমানে বিরাজ করছে, তাতে দেশে কোনো "প্রকৃত ভিক্ষুক" থাকার কথা নয়, তারা হয় না খেতে পেয়ে মরে গেছে, না হয় মাননীয় বনমন্ত্রী যেমন বলেছিলেন "বাংলার রয়েল বেঙ্গল টাইগার ভারতে বেড়াতে গেছে", তেমনি প্রকৃত ভিক্ষুকরাও বেড়াতে গেছে কোনো না কোনো দেশে।

সে হতেই পারে, কাগজেই দেখছিলাম একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে কোনো কোনো ভিক্ষুক বায়ু পরিবর্তনের নিমিত্তে প্র্রতি তিনমাস অন্তর একবার করে "ওভারসিস ট্যুর" করেন। এরা আসলে "কমার্শিয়াল ভিক্ষুক"। ঢাকা শহরে এদের আনাগোনা কিংবা উপদ্রব যাই বলি না কেন? এখনও বেশ চোঁখে পড়ে। এইসব কমার্শিয়াল ভিক্ষুকরা যে এই পেশাতে বেশ ভালই কামাচ্ছেন সেটা বেশ পরিস্কার!

ঘটনা এগুলো নয়, ঘটনা হলো আর একটা!

দেশে এখন প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে "এতিম খানা"। আর অধিকাংশ এতিমখানায় কিছু লোক রাস্তার পাশে বসে, কখনো কখনো বাস ট্রেন কিংবা লঞ্চে উঠে চাঁদা সাহায্য চান। চাঁদা চান এতিমদের থাকা-খাওয়া ভরণ-পোষণ আর বইখাতা কেনার কথা বলে। কারণ চাঁদার টাকাই মূলত উতস এতিমদের পিছনে ব্যয় করার জন্য। আর চাঁদাবাজদের বয়ানে মুগ্ধ হয়ে, কিছুটা পরলৌকিক পুণ্য অর্জনের জন্য যে-যার সমর্থ্যানুসারে সাহায্যও করে থাকেন। তবে সারাদেশে এখন কতগুলো এতিমখানা আছে, আর এতে কত ছাত্র আছে, তার কোনো জড়িপ কোনকালে হয়েছে কী না জানা নেই! 

প্রশ্ন এতিম ছাত্র এলো কোথায় থেকে? দশ-পনেরো বছর আগেও তো দেশে এত এতিমখানা ছিলো না!

প্রশ্ন আরও একটা আছে, সেটা হলো পিতা-মাতাহীন অথবা পিতা-মাতা পরিত্যক্ত শিশুরা কি সবাই ছাত্র? অর্থাত এতিমরা কি সবাই পুরুষ হয়েই জন্মায়? যদিও সঠিক তথ্য নেই, তথাপি সারাদেশে যত সংখ্যক এতিমখানা ছাত্রদের নিয়ে পরিচালিত হয়, আমার তো মনে হয় তার এক দশমাংশও সংখ্যক এতিমখানা ছাত্রীদের নিয়ে পরিচালিত হয় না! তাহলে "ছাত্রী এতিম" কিংবা "এতিম ছাত্রী" নেই কেন? আর এতিমদরদী এইসব পরিচালকরাই বা কেন মেয়ে এতিমদের জন্য সমসংখ্যক এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করছেন না? বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, এর মধ্যে জটিল কিছু "কিন্তু" আছে! আর কিন্তুটা মূলত হলো লাভ-অলাভ-এর হিসেব।

তাহলে কী ধরে নেওয়া যায় না এতিমখানা পরিচালনা এখন একটা ভালো ব্যবসা? 

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আমাদের বিবেকবোধ কী ধুঁয়ে যাচ্ছে?




এর থেকে বেদনাদায়ক চিত্র আর কী হতে পারে!



জানিনা। জানার ইচ্ছাও নেই। জানার ইচ্ছে নেই শিশুটি কোন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র কিংবা দেশের সন্তান? এটি একটি  নিস্প্রান আর অবোধ এই তিন বছরের শিশুর ছবি, এটাই সত্য। 


জানিনা আমাদের মানবিকতা, বিবেকবোধ আর মনুষ্যত্ব নিস্প্রাণ এই শিশুটির মতো প্রতিনিয়ত ধুঁয়ে ধুঁয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে কিনা? আমরা আর মানুষ থাকছি কিনা? জানিনা। জানার ইচ্ছেও করেনা। 

তবে শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে বিনীত প্রার্থনা, হে ঈশ্বর তুমি তোমার সৃষ্ট প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ আর নিস্কন্টক কর। 

তুমি তো সবই পার। 

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

শিক্ষকের মর্যাদা


কাজী কাদের নেওয়াজ
=================

বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।
তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”
উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”


[দু'টি কথা: সেই শিশু বয়সে পড়েছিলাম কবিতাটি, সবটুকু মনে ছিলো না। স্মৃতি হাতড়ে আর নেট ঘেঁটে পুরো কবিতাটি পেয়ে গেলাম। যদিও আজকের দিনে এইমতো পৌরানিক কবিতা নিতান্তই বে-রসা।  এখনকার সময়ে এসব কবিতার খাওতা নেই। এখনকার সময়ের বিষয়বস্তু নীতিশিক্ষা নয় বরং ক্ষমতাশিক্ষা। তাই তো সমাজের আজ এই দশা। 

সত্যি "লজ্জিত" বলা ছাড়া আর কী-ইবা বলার আছে?]

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫

আমার কৈফিয়ত

কাজী নজরুল ইসলাম
==============
বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুজে তাই সই সবি !
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে !
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে –বাণী কই, কবি ?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী !
কবি বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে ।
বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে অকেজো পলিটিক্সের পাঁশ ঠেলে ।
পড়েনাক’ বই, ব’য়ে গেছে ওটা ।
কেহ বলে, বৌ-এ গিলিয়াছে গোটা ।
কেহ বলে, মাটি হ’ল হ’য়ে মোটা জেলে ব’সে শুধু তাস খেলে ।
কেহ বলে, তুই জেলে ছিলি ভালো, ফের যেন তুই যা’স জেলে ।
গুরু ক’ন, তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁচা ।
প্রতি শনিবারই চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন, ‘তুমি হাঁড়িচাঁচা !’
আমি বলি, ‘প্রিয়ে, হাটে ভাঙি হাঁড়ি-‌’
অমনি বন্ধ চিঠি তাড়াতাড়ি।
সব ছেড়ে দিয়ে করিলাম বিয়ে, হিন্দুরা ক’ন, আড়ি চাচা !
যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা !

মৌ-লোভী যত মৌলভী আর 'মোল-লারা' ক'ন হাত নেড়ে,
'দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে !'
ফতোয়া দিলাম কাফের কাজী ও,
যদিও শহীদ হইতে রাজী ও !
'আম পারা'-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে !'
হিন্দুরা ভাবে, 'পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা'ত-নেড়ে !
আনকোরা যত ননভায়োলেন্ট নন্-কো'র দলও নন্ খুশী ।
'ভায়োলেন্সের ভায়োলিন' নাকি আমি, বিপ্লবী -মন তুষি ।
'এটা অহিংস', বিপ্লবী ভাবে,
'নয় চরকরা গান কেন গা'বে ?'
গোঁড়া-রাম ভাবে নাস্তিক আমি, পাতি-রাম ভাবে কনফুসি !
স্বরাজীরা ভাবে নারাজী, নারাজীরা ভাবে তাহাদের অঙ্কুশি !
নর ভাবে , আমি বড় নারী -ঘেঁষা ! নারী ভাবে, নারী বিদ্বেষী ।
'বিলেত ফেরনী ?' প্রবাসী বন্ধু ক'ন, এই তব বিদ্যে ছি !
ভক্তরা বলে, 'নবযুগ-রবি !'-
যুগের না হই, হুজুগের কবি
বটি তো রে দাদা , আমি মনে ভাবি, আর ক'ষে কষি হৃদ- পেশী,
দু'কানে চশমা আঁটিয়া ঘুমানু, দিব্যি হ'তেছে নিদ্ বেশী !
কি যে লিখি ছাই মাথা ও মুন্ডু, আমিই কি বুঝি তার কিছু ?
হাত উঁচু আর হ'ল না তো ভাই, তাই লিখি ক'রে ঘাড় নীচু !


বন্ধু ! তোমরা দিলেনাক' দান,
রাজ-সরকার রেখেছেন মান !
যাহা কিছু লিখি অমূল্য ব'লে অ-মূল্যে নেন ! আর কিছু
শুনেছ কি, হুঁ হুঁ, ফিরেছে রাজার প্রহরী সদাই কার পিছু ?

বন্ধু ! তুমিতো দেখেছ আমায় আমার মনের মন্দিরে,
হাড় কালি হল, শাসাতে নারিনু তবু পোড়া মন-বন্দীরে !
যতবার বাঁধি ছেঁড়ে সে শিকল,
মেরে মেরে তারে করিল বিকল,
তবু যদি কথা শুনে সে পাগল ! মানিল না রবি-গান্ধীরে !
হঠাৎ জাগিয়া বাঘ খুঁজে ফেরে নিশার আঁধারে বন চিরে !

আমি বলি, ওরে কথা শোন ক্ষ্যাপা, দিব্যি আছিস খোশহালে !
প্রায় 'হাফ' নেতা হয়ে উঠেছিস, এবার এ দাঁও ফসকালে
'ফুল'-নেতা আর হবিনে যে হায় !
বক্তৃতা দিয়া কাঁদিতে সভায়
গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এই বেলা ঢোকা ! সেই তালে
নিস্ তোর ফুটো ঘরটাও ছেয়ে, নয় পস্তাবি শেষকালে ।

বোঝেনাক' সে যে চারণের বেশে ফেরে দেশে দেশে গান গেয়ে
গান শুনে সবে ভাবে, ভাবনা কি ! দিন যাবে এবে পান খেয়ে ।
রবেনাক' ম্যালেরিয়া মহামারী,
স্বরাজ আসিছে চ'ড়ে জুড়ি-গাড়ী,
চাঁদা চাই, তারা ক্ষুধার অন্ন এনে দেয়, কাঁদে ছেলে-মেয়ে ।
মাতা কয়, ওরে চুপ্ হতভাগা, স্বরাজ আসে যে, দেখ্ চেয়ে !

ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত , একটু নুন,
বেলা ব'য়ে যায়, খায়নিক' বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন ।
কেঁদে ছুটে আসি পাগলের প্রায়,
স্বরাজের নেশা কোথা ছুটে যায় !
কেঁদে বলি, ওগো ভগবান তুমি আজিও আছ কি ? কালি ও চুন
কেন ওঠেনাক' তাহাদের গালে, যারা খায় এই শিশুর খুন ?
আমরা তো জানি, স্বরাজ আনিতে পোড়া বার্তাকু এনেছি খাস ।
কত শত কোটী ক্ষুধিত শিশুর ক্ষুধা নিঙাড়িয়া কাড়িয়া গ্রাস
এল কোটী টাকা, এল না স্বরাজ !
টাকা দিতে নারে ভুখারি সমাজ ।

মা'র বুক হতে ছেলে কেড়ে খায়, মোরা বলি, বাঘ, খাও হে ঘাস !
হেরিনু, জননী মাগিছে ভিক্ষা ঢেকে রেখে ঘরে ছেলের লাশ !
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে,
রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসেনাক' মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে !
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে !
পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে,
মাথার ওপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে ।
প্রার্থনা ক'রো-যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটী মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ ।
=======================================
তোমার কবিতায় তোমাকে বিনম্র শ্রদ্ধা, হে কালজয়ী কবি !

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৫

উত্তরণের আছে কী কোনো পথ?

'ঘুড়ির হাতে বাঁশের নাটাই উড়তে থাকে ছেলে 
বড়শি দিয়ে মানুষ গাঁথে মাছেরা ছিপ ফেলে'


লাইন দু'টি মনে আছে। কে লিখেছিলেন, মনে নেই। সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ছড়াকার ও কবি সুকুমার রায়ের লেখা। কবে পড়েছিলাম, তা মনে নেই। কোথায় পড়েছিলাম তাও মনে নেই। তবে তা বেশ মনে আছে, ছড়াটি যে আমাদের দেশের কোনো শ্রেণীতেই পাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলনা। থাকবে কী করে? এখানে তো মানুষকে সরেষ আর সাহিত্যানুরাগী মানুষ বানানোর জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করার সুযোগ নেই। বরং এখানে দরকার ধর্ম ব্যবসার প্রসারের কলাকৌশল সম্বলিত ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকারকে তো তাই করতে হবে। জনচাহিদা বলে কথা!

এসব আবোল তাবোল পড়ে লাভ কী? এখানে না আছে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন, না আছে উদারনৈতিক সাহিত্য আর মৌলিক শিক্ষার প্রয়োজন। এখনকার সময়ে আদর্শলিপি'র শিক্ষা "ঔ তে ঔদার্য্য অতি মহৎ গুণ" দেখানোর টাইম কই? তার বদলে "ক -তে কঠোর হও কসাইর মতো" মতো জীবনমুখী! ধর্মমুখী! বাস্তবমুখী! সৃজনশীল! কত কায়দার শিক্ষায় জাতি শিক্ষিত হচ্ছে!


যাক সে কথা, একটু ভাবলেই বোঝা যায় এদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলোর ক্ষমতা কেন্দ্রিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতিগ্রস্থ আর সমাজবিরোধী অপশক্তিগুলির শক্তিমত্তা, আরও "প্রকাশযোগ্য নহে" এমন অসংখ্য অসংখ্য বিষয় বিবেচনায় নিলে শিশুতোষ আর মজার এ ছড়াটি এখন কী ভীষণ রকমের বাস্তব!

কথা একটাই, এর থেকে উত্তরণের আছে কী কোনো পথ?

সামু ব্লগে প্রকাশিত

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫

ঝড়, নারী ও নর

ক্ষুদ্র জীবনেও অবশিষ্ট আগামী দিনগুলি নিয়ে আমার যত ভাবনা! 
দিনরাত উদভ্রান্তের মতো ছুটে চলা, এ রাজ্য থেকে ভাবনার সে রাজ্যে;
কখনও আন্দোলিত হই, কখনও শিহরিত হই সুমুখে আলোক নাচন দেখে!
জীবন তো নয়, আমার কাছে 'সময়' যেন বয়ে চলা বিধ্বংশী ঝড়!
তুমি তো আছো বেশ!
এসবে তোমার আঁচ লাগেনা, এখন তোমার দুষ্টু সময়!

চতুর্মাত্রিক-এ প্রকাশিত

০৪ জুন-২০১৫ ইং